Breaking News

কার ভুলে গচ্চা যাচ্ছে ১১ কোটি টাকা

ছাড়পত্রের (এলইউসি) জন্য ২০১০ সালের ১৩ মে আবেদন করেন। এই নকশায় জমির দৈর্ঘ্য ১৮৭ দশমিক ১৩ মিটার এবং প্রস্থ ২২ দশমিক ৫৫ মিটার দেখানো হয়। তবে এতে সড়কের জন্য ৯১ বর্গমিটার সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়ে নকশা দেওয়া হয়। এই নকশায় নকশাবিদ আতিকুল ইসলাম, সহকারী নগর–পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ও নগর–পরিকল্পনাবিদ সারোয়ার উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষর করেন। ওই বছরের ১৪ জুলাই সারোয়ার উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র সনদ দেওয়া হয়। প্রায় ছয় মাস পর জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করে সনদ সংশোধনের জন্য আবেদন করেন মোহাম্মদ ইকবাল। সংশোধিত নকশায় রাস্তার জন্য জমি ছাড়ের পরিমাণ বৃদ্ধি না করায় আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষর দেননি। অন্য দুজন স্বাক্ষর করেন।

এ বিষয়ে সারোয়ার উদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, সহকারী নগর–পরিকল্পনাবিদ ও জিআইএস অপারেটররা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে নথি দিয়েছেন। তাতে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান দাবি করেছেন, তদন্ত কমিটি তাঁদের অবহেলা খুঁজে পায়নি।

ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নগর–পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান দাবি করেন, বাস্তবে যে পরিমাণ জায়গা আছে, তার দ্বিগুণ জমি দেখিয়ে নকশা জমা দিয়েছিলেন ভবনমালিক। ফলে রাস্তার জন্য জায়গা নির্ধারিত থাকার বিষয়টি দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। তবে নকশায় নকশাবিদের স্বাক্ষর না থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, উনি (আতিকুল ইসলাম) জানতেন বিষয়টি।’

নকশাবিদ আতিকুল ইসলাম বলেন, সহকারী নগর–পরিকল্পনাবিদ আশরাফুজ্জামান নকশাটি তাঁর কাছে নিয়ে আসেন। দাপ্তরিক নথির মাধ্যমে না আসায় তিনি নকশায় স্বাক্ষর করেননি। সিডিএর নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১০ তলা ভবনের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে নতুন সড়কের জন্য সংরক্ষিত জায়গা চিহ্নিত করার বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেননি সহকারী অথরাইজড কর্মকর্তা মো. ইফতেখার ও অথরাইজড কর্মকর্তা মোহা. মনজুর হাসান।

২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ইমারত নির্মাণ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনটি শর্তে নির্মাণ অনুমোদনপত্র ইস্যু করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত ছিল ভবনের নকশা জ্যেষ্ঠ স্থপতির যাচাই সাপেক্ষে অনুমোদিত হবে। কিন্তু তা করা হয়নি। এ বিষয়ে সিডিএর তিন প্রকৌশলী ও এক নগর–পরিকল্পনাবিদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নথিপত্র জ্যেষ্ঠ স্থপতির কাছে পাঠানো হলে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ার সুযোগ ছিল। তখন রাস্তার জায়গায় ভবন নির্মাণের অনুমোদনের বিষয়টি আটকে যেত। পুরো প্রক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে, এটি অনিচ্ছা কিংবা অসতর্কতাজনিত ভুল নয়, ইচ্ছাকৃত ভুল। সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষও মনে করেন, ভবনমালিক নন, সিডিএর যাঁরা নকশা অনুমোদন দিয়েছেন, তাঁদের দোষ থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.