Breaking News

সাতক্ষীরার মধ্যযুগীয় অযত্নে-অবহেলায় ঐতিহাসিক শ্যামসুন্দর মন্দির ধ্বংস হওয়ার পথে

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা সোনাবাড়িয়া গ্রামে মধ্যযুগীয় নানা পুরাকীর্তির নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এমনই এক প্রাচীন নিদর্শন শ্যামসুন্দর মঠ-মন্দির। সরকারি রক্ষণাবেক্ষণ পেলে এটিও হতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

সাতক্ষীরা জেলা সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে সোনাবাড়িয়া গ্রাম। এখানেই রয়েছে প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো ৬০ ফুট উঁচু টেরাকোটা ফলক খচিত পিরামিড আকৃতির এই মঠ-মন্দিরটি রয়েছে। জরাজীর্ণ ও ভগ্ন প্রায় এই ঐতিহাসিক মঠ-মন্দিরটি সংরক্ষণ করতে ২০১২ সালে উদ্যোগ নিলেও আজও পর্যন্ত কোনও সংস্কার করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার করা না গেলে এই জাতীয় সম্পদটি বিনষ্ট হয়ে যাবে। দক্ষিণমুখী এই মন্দিরের নিচের তলার ভেতরের অংশে চারটি ভাগ রয়েছে। প্রথম ভাগের চারপাশে রয়েছে ঘূর্ণায়মান টানা অলিন্দ। দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে একটি মণ্ডপ। তৃতীয় ভাগের পশ্চিম পাশের কোঠা এবং মাঝের কোঠাটির উত্তরে একটি করে প্রকোষ্ঠ রয়েছে। কিন্তু পূর্বাংশের কোঠাটির পেছনে রয়েছে একটি অলিন্দ, যেখানে দ্বিতল ভবনে ওঠার সিঁড়ি রয়েছে। দ্বিতলে রয়েছে, একটি দক্ষিণমুখী কোঠা। ত্রিতল ভবনটি তুলনামূলক ছোট। এর দক্ষিণ দিকের মধ্যের খিলানটির ওপর একটি পোড়া মাটির ফলক রয়েছে। শ্যামসুন্দর মঠের নিচে রয়েছে মঞ্চ। এর প্রত্যেক তলার ছাদপ্রান্ত ধনুকের মত বাঁকা। এগুলোর ছাদের ওপর ক্রমান্বয়ে ধাপে ধাপে ঊর্ধ্বমুখী গম্বুজ রয়েছে। আর মাঝখানে রয়েছে ‘নবরত্ম স্মৃতি মন্দির’। নবরত্ম বা শ্যামসুন্দর মঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে আরও একটি দক্ষিণমুখি মন্দির আছে। এটি ‘দুর্গা মন্দির’ নামে পরিচিত।

জানা যায়, মঠ মন্দির গুচ্ছের দক্ষিণে ‘জমির বিশ্বাসের পুকুর’ নামে যে জলাশয়টি আছে তার পাকাঘাটে ব্যবহৃত ইটের সঙ্গে ‘অন্নপূর্ণা মন্দির’ এর ইটের মিল পাওয়া যায়। তাতে ধারণা করা হয়, পুকুরটি একই সময়কার। এলাকাবাসীরা চান, প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ মন্দির গুচ্ছের সংরক্ষণের দায়িত্ব নিক। কিন্তু খুলনা জাদুঘরের টিম পরিদর্শনের ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এ মঠ-মন্দিরটি আজও সংরক্ষণ করা হয়নি।শ্যামসুন্দর মঠ মন্দিরটি ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে জনৈক হরিরাম দাশ (মতান্তরে দুর্গাপ্রিয় দাশ) নির্মাণ করেছিলেন। এই পুরাকীর্তির সবচেয়ে বড় অংশটি হচ্ছে ত্রিতলবিশিষ্ট নবরত্ম মন্দির। এটিই এলাকায় ‘শ্যামসুন্দর মন্দির’ নামে পরিচিত। এর সঙ্গে রয়েছে দুর্গা মন্দির ও শিবমন্দির। এই মন্দির গুচ্ছের দক্ষিণে একটি দিঘি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*